২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে যখন অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে iPhone Duo ঘোষণা করে, তখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রেমীদের মাঝে এক বিশাল উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এই উন্মাদনার বিপরীতে, প্রি-অর্ডারের প্রথম দিনেই গ্রাহকদের এমন কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় যা সাধারণত সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় শীর্ষে থাকা অ্যাপলের সাথে একেবারেই বেমানান। JeetWin-এর মতো প্রিমিয়াম প্ল্যাটফর্মে আমরা যেমন নিরবচ্ছিন্ন এবং তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতার মূল্য বুঝি, ঠিক তেমনি গ্রাহকরাও তাদের কাঙ্ক্ষিত পণ্যের ক্ষেত্রে দ্রুততা প্রত্যাশা করেন। কিন্তু বাস্তবে, ফিলিপাইন থেকে শুরু করে বিশ্বজুড়ে apple iphone duo-এর উন্মোচন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে।
iPhone Duo Pre-Order Realities
ফিলিপাইনে ২৩ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিভাইসটি বাজারে আসার কথা থাকলেও, ১৬ অক্টোবরের প্রি-অর্ডার পর্বেই সরবরাহ চেইনের সীমাবদ্ধতা এবং বিশৃঙ্খলা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ওইদিন স্মার্ট কমিউনিকেশনস (Smart Communications) এবং বিয়ন্ড দ্য বক্স (Beyond the Box)-এর মতো রিটেইলাররা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রি-অর্ডার শুরু করে। কিন্তু অ্যাপল স্টোর অ্যাপটি মার্কিন প্যাসিফিক সময় ভোর ৫টা পর্যন্ত ঠিকমতো কাজ করেনি। যখন ৫টা বেজে ২ মিনিট, ততক্ষণে প্রায় সব মডেলের আনুমানিক ডেলিভারির তারিখ নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পিছিয়ে যায়, যা প্রমাণ করে যে প্রাথমিক স্টক মুহূর্তের মধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছিল।
পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে যখন এই ডেলিভারির সময়সীমা ক্রমান্বয়ে ডিসেম্বর এবং পরবর্তীকালে ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হয়। এর মানে হলো, যারা প্রি-অর্ডারের প্রথম কয়েক মিনিট হাতছাড়া করেছেন, তাদের ফোন হাতে পেতে প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। স্থানীয়ভাবে ফিলিপাইনে ইউনিয়নব্যাংক (UnionBank) পে-ইজি প্রোমোর মাধ্যমে যারা ১৬ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে লেনদেন সম্পন্ন করেছিলেন, তাদের রিডেম্পশন পিরিয়ড ২০২৬ সালের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা হয়েছে। ২০০০ ডলারের বেশি দামের একটি প্রিমিয়াম ডিভাইসের জন্য ক্রেতাদের এই ধরনের দীর্ঘ অপেক্ষা প্রায় নজিরবিহীন।
The Global Launch Strategy Gamble
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাপল তাদের সরবরাহ সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল। তা সত্ত্বেও, বাজার চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিবর্তে আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে নতুন পণ্য বাজারে ছাড়ার দিকেই তারা বেশি মনোনিবেশ করেছিল। সাধারণত অ্যাপল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বড় বাজারগুলোতে আগে পণ্য উন্মুক্ত করে এবং পরে ধাপে ধাপে অন্যান্য অঞ্চলে তা বিস্তার করে। কিন্তু এবার তারা বিশ্বব্যাপী ৭০টিরও বেশি দেশে একই সাথে ডিভাইসটি লঞ্চ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই বৈশ্বিক লঞ্চের ফলেই মূলত সীমিত সরবরাহের ফোনগুলো বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সংকট ঘনীভূত হয়। উদাহরণস্বরূপ, মাকাতি সিটির গ্রিনবেল্ট ৩-এর পাওয়ার ম্যাক সেন্টারে (Power Mac Center) রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ডিভাইসটির বিক্রয় কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও, লঞ্চের দিন আসলে কতগুলো স্টক থাকবে তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, জানুয়ারির শেষ দিকে যখন প্রি-অর্ডারের ডেলিভারি পৌঁছাবে, ততদিনে অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের মডেল আসার সময় কাছাকাছি চলে আসবে। প্রথম ধাপে কিনতে চাওয়া ক্রেতাদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি নেতিবাচক দিক এবং অ্যাপলের লঞ্চ কৌশলের একটি বড় কাঠামোগত ত্রুটি।